চলুন একটা গল্প বলি।ইন্টারেস্টিং কিনা বলতে পারবো না।তবে আমাদের এই গল্পের চরিত্র গুলো ভালোই!অন্তত ধারে-ভারে,হাড়ে-হাড়ে অন্তত আক্কুনী আর হেবোনীর চেয়ে তো অনেকাংশেই ভালই।
অবশ্য যারা আক্কুনী আর হেবোনির কাহিনী জানে না,তাদের উচিত এক্ষুনি এই লিংকে গিয়ে কাহিনীটার সর্বোপরী জেনে আসা।

এই গল্পটা লেখার পেছনে একটা অচিন্তনীয় মর্মঘাতী ব্যাপার-স্যাপার আছে! 😜
আমি যেটাকে নারী সেবা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছি!
আর নারী সেবা এবং জনসেবা কিন্তু এক নাহ!
কাজেই কেউ এটাকে গুলিয়ে ফেলবেন নাহ!
আশা করি মেয়েরা বিশেষ করে যারা এখনো অবিবাহিত তারা এই গল্প পড়ে কিছু শিখবে!
কেউ না শিখুক অন্তত আমার ফিউচার বৌ-টা শিখতে পারলেও চলবে!  (কেউ আমারে মারিয়েন না!)

গল্পের মূল চরিত্র যার নাম আমি বয়সের নিদারুণ চাপে,এবং মর্মঘাতী মানসিক অন্তর্ঘাতে পড়ে ভুলে গিয়েছি বলে ‘জব্বার’ বলে বলে চালিয়ে দিতেছি!
আর রায়হান আখন্দ আর ইমতিয়াজ আল হাবীবের মতই সে ও আমার বাল্যকালের ফ্রেন্ড!দেখতে শুনতে তাদের দুজনের মতই বেমক্কা ভিলেন টাইপের!
সাথে ইয়া বড় ভুড়ি আর লোমশ ভুরু সমেত!তবে জব্বার সাহেব তাদের মত অত লুচু না হলে ও মোটামুটি সেমি লুচু বলাইই যায়।(এহেন সব বদলোকের সাথে আমার খাতির কীভাবে হয় সে প্রশ্ন না করাই বেটার!)

উপরের বিবরণ শুনে আপনাদের মতে হতেই পারে যে এই জব্বার সাহেব নিশ্চয় কোন হোমরা-চোমরা আমলা-সচিব টাইপের কেউ হবেন!এরকম ধারণা স্বাভাবিক।কারণ উপরের বৈশিষ্ট গুলো আমরা তাদের মধ্যে দেখতে পাই কিনা! .
তবে দুঃখজনক ব্যাপারটা হল জব্বার সাহেব একটা হজ এজেন্সিতে কাজ করেন!দুঃখজনক কারণ কেন,সে আলাপ না হয় পরে কোন একদিন হবে!
যে হজ এজেন্সিতে জব্বার সাহেব কাজ করেন সেইটা অনেক বড় হজ এজেন্সি।তার কোন এক ভাই এই এজেন্সির মালিকদের একজন!
প্রতিবছর গন্ডায় গন্ডায় হাজারে হাজারে লোক এই এজেন্সির মাধ্যমে হজ্ব করতে যায়।কম না হলেও সংখ্যাটা হাজার দশেক হবেই!
আর সারাবছর ওমরা তো আছেই!

সৌদিতে এসব হাজীদের সব দায় দায়িত্ব জব্বার সাহেবের উপরেইই ন্যস্ত থাকে!যার কারণে তাকে সারাবছরই উরুম-ধুরুম দৌড়ের উপর থাকা লাগে!

এহেন এই হাজীদের পবিত্র কাজের সুবাদে এবং তার পেশাগত দায়িত্বের খাতিরেইই তাকে বছরের ৫/৬ মাস সৌদিতেই দিন গুজরান করতে হয়!
বন্ধুত্বের সুবাদেই তার কাছ থেকে সৌদি এরাবিয়ান এবং তার আশেপাশের বিভিন্ন দেশের মানুষের সম্পর্কে জানতে পারি!
একেবারে খাঁটি সৌদিয়ান বলতে যা বুঝায়,ওইরকম মানুষের সংখ্যা নাকি বেশ কম।সাধারনত মাথায় বড় সাদা রুমাল আর কালো গোল চাকতি পরা মানুষ দেখলেই আমরা ভাবি এরাইই বুঝি খাঁটি সৌদি-আরবের মানুষ!আসলে কথাটা সত্য নয়।

জব্বারের ভাষ্যমতে আমাদের দেশ থেকে যারা কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি পাড়ি জমায় তাদের আটানব্বই শতাংশইই শ্রমিক শ্রেনীর!
এরা আসলে খাঁটি সৌদি আর নন-সৌদির ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারে না।আর এরা দেশে ফিরে সৌদি আরবের মানুষদের রগরগে যৌনাচারের যে ঘটনা গুলো বর্ননা করে,নিশ্চিত থাকুন ওগুলো খাঁটি সৌদিদের নয়!খাঁটি সৌদিরা পবিত্রতার দিক দিয়ে ফেরেশতা টাইপ।
আমি ও অবশ্য বেশরকম অবাক হয়েছিলাম এই কথা শুনে!!

সে যাইই হোক জব্বার সাহেবের সাথে এক খাঁটি সৌদিয়ান এর সাথে গাঢ় বন্ধুত্ব হয়েছিলো।তার সেই বন্ধুর নাম ছিল ফায়েজ।বিখ্যাত হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বংশধর!

একদিন ফায়েজ সাহেবের ড্রয়িং রুমে বসে আছেন জব্বার সাহেব।ভেতরে ফায়েজ এবং আর তার স্ত্রীর মধ্যে কী নিয়ে যেন একটু তর্ক বিতর্ক চলতেসিলো।

জব্বার সাহেব অপেক্ষা করতে লাগলেন কখন তাদের এই তর্ক-বিতর্ক শেষ হয়!
কিন্তু সেটা মনে হয় শেষ হবার নয়,তাই জব্বার সাহেবে ব্যাপারটা কি সেইটে জানতে চাইতেই ফায়েজ সাহেবের স্ত্রী খট করে একটা অপুর্ব ডানাকাটা সুন্দরী মেয়ের ফটো জব্বার সাহেবের বিশাল ভুরুর নিচে অবস্থিত চোখের সামনে মেলে ধরে বললেন,
“মেয়েটা সুন্দরী না জব্বার ভাই?”

জব্বার সাহেব কিছু বললেন না।
তবে মনে মনে কোন ভয়ংকর সাংসারিক দুর্যোগের ঘনঘটার আভাস দেখতে পেলেন!
ভাবলেন,কাম সারছে রে।
নিশ্চিত ভাবেই এই ফটোর মেয়েটির সাথে ফায়েজের কিছু হইসে।এখন সেইটা স্ত্রী প্রবর ধরে ফেলেছেন।
ফায়েজের জায়গায় নিজেকে এবং ফায়েজের স্ত্রীর জায়গায় নিজের দজ্জাল বউকে কল্পনা করলেন,এবং দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পেলেন,
যে প্রথমে পক-পক,তারপর বকবক,তারপর রাগারাগি,তারপর মাঝারী আকারের হাতাহাতি এরপর বড় আকারের ভাংচুর!
তারপর তার বউয়ের গাট্টি বোচকা আর তল্পি তল্পা সহ বাপের বাড়ি গমন!
জব্বার সাহেব ভাবলেন তার ফায়েজের ক্ষেত্রে এমনটাইই হবে……

“দেখুন তো জব্বার ভাই,ভালো করে!” ঝটকরে নিজের নেকাবটা সরিয়ে ফেললেন ফায়েজ সাহেবের স্ত্রী!এবং বললেন,
“ছবির এই মেয়েটি কি আমার চেয়ে ও সুন্দরী নয় কি?”
জব্বার সাহেব ভয় পেলেন!আরবেরা হালি হালি বিয়েতে অভ্যস্ত।নিশ্চিত ভাবেই তার ধারনা সঠিক।এই মেয়েটিকে নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে।এখন কুরুক্ষেত্র ও প্রস্তুত।খালি যুদ্ধটাইই বাকী!

“ইয়ে মানে…সুন্দরীইই তো মনে হচ্ছে!” জব্বার সাহেব ভেবে চিনতে উত্তর দিলেন।আসলেই ছবির মেয়েটি ফায়েজের স্ত্রীর চেয়েও সুন্দরী।একেবারে স্বর্গের অস্পরী যাকে বলে!

জব্বার সাহেবের কাছ থেকে উত্তর পেয়ে মহিলা আংগুল তুলে নিজের স্বামী ফায়েজকে দেখিয়ে বললেন,
“এই রামগাধাটাকে সেইই কবে থেকে বলছি,মেয়েটাকে বিয়ে করার জন্যে,কিন্তু গাধাটা আমার কথা কানেই তুলছে না!এটা কি সহ্য করা যায়?মেয়েটা আমার ঘনিষ্ট বান্ধবী।আমি জানি সে কত্ত সুন্দ্রী আর কত্ত ভালো!”

জব্বার সাহেবের মনে হল জীবনে এই প্রথম তিনি একই সাথে বাকলেস হয়ে গেলেন,চোখ কপালের বদলে পারলে মাথার পেছনে গিয়ে ঠেকে…এবং চোয়াল দু হাত লম্বা-লম্বি ভাবে ঝুলে পড়ল!নিজের কানকে পর্যন্ত অবিশ্বাস করা শুরু করলেন জব্বার সাহেব।
এ কি করে সম্ভব,নিজের স্ত্রী তার স্বামীকে তারই ঘনিষ্ট বান্ধবীকে বিয়ে করার জন্যে এইভাবে………
জব্বার সাহেব ক্ষোভে-দুঃক্ষে-বিস্ময়ে হতবাক এবং গরীব হয়ে গেলেন!

এদিকে স্ত্রীর অনুযোগ আর অভিযোগ মাখা কথার তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ হয়ে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে ফায়েজ উঠে চলে গেলেন।
আর নেকাব দিয়ে মুখ ঢাকলেন ফায়েজের স্ত্রী…… কিন্তু অনবরত ফায়েজের এহেন নির্বুদ্ধিতা ও গাধামির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ নামা দিয়েই যাচ্ছেন।
এদিকে জব্বার সাহেব তার নিজের স্ত্রীর কথা ভেবে হাহাকারভরা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন!

গাড়িতে করে তারা তিনজন মানে ফায়েজ,তার স্ত্রী আর জব্বার সাহেব কোথাও যাচ্ছিলেন।গাড়ী চালাচ্ছিলেন ফায়েজ।পাশে জব্বার সাহেব।
আর পেছনে ফায়েজের স্ত্রী।
আর তখন চিরন্তন মেয়েলী অভ্যাসের দরুণ স্বামীর সাথে তর্ক করেই চলছেন।
তার ভাবখানা এমন যে,
‘হালা তুই বিয়া করবি না মানে?শালা তুই যাইবিই কই বিয়া না কইরা!তুই বিয়া করবি,পারলে তোর বাপ শুদ্ধা বিয়া করবে।শালার্পো শালা!’

জব্বার সাহেব বিষয়টা এখনো হজম করতে পারেননি।তাই তিনি তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে দিশেহারা ফায়েজ কে না জিজ্ঞেস করে ফায়েজের স্ত্রী র কাছে ব্যাপারটার একটু ব্যাখা জানতে চাইলেন!

জবাবে ফায়েজের স্ত্রী যা ব্যাখা করলো,তার সারমর্ম দাঁড়ায় এমন যে,এখানকার মেয়েরা স্কুল-জীবনে প্রায়ই নিজের ঘনিষ্ট তিন-চারজন বান্ধবী নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিজ্ঞা করে।সেইটে হল বান্ধবীদের মধ্যে যারই আগে বিয়ে হবে,সে তার স্বামীকে বলে বাকীদের বিয়ে করিয়ে সতীন করে নিয়ে আসবে।এভাবেই তারা নিজেদের বন্ধুত্ব সারাজীবন টিকিয়ে রাখবে!(ও মাই গাস! )
একসংগে থাকবে,গল্প-গুজব করবে,আড্ডা মারবে,ঘুরবে,শপিং করবে ইত্যাদি ইত্যাদি!(ক্যান যে সৌদিতে জন্মাইলাম না )

জব্বার সাহেব পুনরায় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফেললেন-আহা কবে যে আমাদের দেশের মেয়ে গুলা এত্ত ভালো হবে!এরা কি এদের দেখে একটু শিখে ও নিতে পারে না?!

নিজের স্ত্রীর কথা ভেবে জব্বার সাহেব পুনরায় আরো দুই-তিনটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন,এবং সৌদিতে জন্মগ্রহন না করে বাঙ্গালমুলুকে জন্ম নেওয়ার জন্যে বিশাল সাইজের কপাল কে দোষারোপ করতে লাগলেন!

এক বছর পরের ঘটনা…।জব্বার সাহেবে আবার গেছেন বন্ধু প্রবরের বাড়িতে!বন্ধু ফায়েজ তখন আবার বাড়িতে ছিলেন না।তাই ফোন দিলেন তাকে।
আর ফায়েজ ফোন রিসিভ করলেন দুবাই থেকে।

বললেন,”তুই তোর ভাবীকে নিয়ে ওর বাপের বাড়ি তাবুকে আয়,আমি ওখানে আসছি!”
জব্বার সাহেব তার বন্ধুর স্ত্রীকে নিতে গিয়ে রীতিমত ভিরমি খেলেন।অবশ্য ভিরমি খাওয়ার যথেষ্ট কারণ ও আছে বৈকি!
কেননা তিনি দেখতে পেলেন,তার ভাবী একজন নয়,দুই জন!

যার মানে হল ফায়েজের স্ত্রী তার সংগ্রামে সফল হয়েছেন!তিনি তার ফটোতে দেখানো সেই প্রিয় বান্ধবীকে সতীন হিসেবে পাওয়ার দুর্লভ সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছেন!
স্বাভাবিক ভাবেই তার আনন্দের শেষ নাই!

এদিকে জব্বার সাহেব পুনরায় বাকলেস হয়ে গেলেন।
এবং এই অবস্থায় তাদের নিয়ে গাড়িতে চড়ে প্লেনে উঠলেন।আর প্লেন যথারীতি তাবুকে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল!

কিন্তু মাঝ আকাশে জব্বার সাহেব আবিষ্কার করলেন দুই সতিনে মিলে(২০৩ না কিন্তু) অল্প বয়স্ক চোখ ধাঁধানো ডানাকাটা পরীর সমতুল্য সুন্দ্রী এয়ার হোস্টেস মেয়েটির দিকে তাকাচ্ছে আর নিজেদের মধ্যে গুজুর-গুজুর,ফুসুর-ফুসুর করছে।ঠিক ষড়যন্ত্রের স্ট্যাইলে।

একটু পরে দুই-সতীনে মিলে এয়ার হোস্টেস মেয়েটির কাছে গিয়ে পুর্বেকার মতই চোরা-চোরা ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের মত অনেকক্ষন গুজুর-গুজুর,ফুসুর-ফাসুর করলেন।

তাদের এই ষড়যন্ত্র বা নীল-নকশা সফল ভাবে শেষ হওয়ার পর ফায়েজের প্রথম স্ত্রী জব্বার সাহেবের কাছে এসে বললনে,আপনার বন্ধুকে ফোন করুন।আমরা এই এয়ার হোস্টেস মেয়েটিকে রাজি করিয়ে ফেলেছি!এই মেয়ে আমার স্বামীকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে!দেখুন না,মেয়েটি অনেক সুন্দরী না দেখতে?”

জব্বার সাহেবের মনে হল তার জ্ঞান হারানো উচিত!
নিজেকে সামলে নিয়ে জ্ঞান না হারানো থেকে রক্ষে পেলেও ও তার চোয়াল ঝুলে কোলের উপ্রে পড়ে যাওয়ার দশা হল!

মনে মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন-“শ্লার,এই দেশে হইতেসেটা কি?আর এই মাইয়া গুলার সমস্যাটাইই কি?এগুলা এরকম করে কেন?”

জব্বার সাহেবের এমন অবস্থা(নাকি দুদর্শা) দেখে ফায়েজের স্ত্রী নিজেই হাসিমুখে ফোন করলেন স্বামীকে।
‘হ্যালো?হ্যাঁ হ্যাঁ আসছি…না না কোন সমস্যা হচ্ছে না….এই শুনো না,প্লেনের এয়ার হোস্টেস কে আমাদের খুবই মনে ধরেছে।খুবই সুন্দরী।আমাদের দুজনের ছেয়ে ও! আমরা মেয়েটিকে রাজি করিয়ে ফেলেছি!তুমি অবশ্যই একে বিয়ে করবে!’
অনেকটা হুমকির সুরে বললো ফায়েজের স্ত্রী,’না না আমরা কোন কথাই শুনতে চাইই না!  ….বলেছি না মেয়ে অনেক সুন্দর!দেখতে মিস্টি…বয়স ও বেশী না….বিশ্বাস না হইলে জব্বার ভাইকে জিজ্ঞেস করে দেখো……..
‘এই বলেই হাসিমুখে ফোনটা জব্বার সাহেবের দিকে এগিয়ে দিলেন ফায়েজের প্রথম স্ত্রী!এবং বললেন,
“গাধাটারে একটু বুঝিয়ে বলেন তো মেয়েটা সত্যিইই সুন্দরী!….দেখতে ও অনেক মিষ্টি…………!!!”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here