আজ থেকে প্রায় আঠারোশো বছর আগে খ্রিস্টের জন্মের আড়াইশো বছর পরে, তখন দুনিয়া বুকে রোমান সাম্রাজ্য কেবল বড় থেকে বড়তর হইতেছিলো।
এটা ছিল রোমান এম্পায়ারের গোড়ার দিকের সময়কাল।

তখনকার সময়ে মুলত দুইটা ধর্মই ছিল। একটা হইলো প্যাগানিজম। আরেকটা হইলো নতুন গজানো ক্রিস্ট ধর্ম। দুইটার মধ্যে এক ক্রিস্ট ধর্মই আসমানী ধর্ম।ইহুদিরা তো ততো দিনে প্রায় বাতিল হই গেছিলো।আর খ্রিস্ট ধর্মের আলো তখনো রোমে এসে পৌছায় নি।

রোমে চলতো প্যাগানিজম। যেহেতু রোম সাম্রাজ্য ছিল বিশাল। এবং এই বিশাল সাম্রাজ্যের বিশাল অঞ্চল জুড়ে প্যাগানিজমের আধিপাত্য বেশী ছিল। এবং একেক অঞ্চলের মানুষদের প্যাগানিজমের মধ্যে কিছু পার্থক্য ছিল।

খাঁটি রোমান যারা ছিল, তারা রোমান-গ্রীক প্যাগানিজমে বিশ্বাসী ছিল।বেসিক্যালি মুর্তিপুজা আর অবৈধ গন-লাগালাগিতে বিশ্বাসী। বিয়ে নামের জিনিসটার সাথে তারা পরিচিতইই ছিল না।ইনসেস্ট/অজাচার ছিল নরমাল বিষয়।যেহেতু বিয়ার বালাই ছিল না,কাজেই যে কেউ যে কারো সাথে ভিতরে-বাহিরে অন্তরে অন্তরে খেলতে পারতো।

আবার সাম্রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে আসা প্যাগানদের মধ্যে বিয়া ছিল। তারা এরকম গণ-লাগালাগি করত না বা রোমানদের মত খাচ্ছর ছিল না। যেমন ফিলিস্তিনি আর আরব প্যাগানরা ‘বাল’ নামের এক দেবতার পুজা করতো।
বালের পুজার শর্তই হইলো লাগালাগি করতে হইলে আগে বিয়া করয়া লাগবে। বিয়া হবে বালের মন্দিরে,এবং সেখানেইই সেক্স করতে হবে(বিয়া পড়ানোর পর পুরোহিতরা দরজা লাগিয়ে বাইরে চলে যেত। নব-দম্পতিকে সেক্স করে বিয়া শুদ্ধ করানোর জন্যে )। তারপর তবেই আপনি পুরাপুরি বিয়াইইত্তা হইতে পারবেন।
এরকারন হইলো ‘বাল’ ছিলো প্রজননের দেবতা, ফসলের দেবতা আর শক্তির দেবতা।

যাই হোক প্যাগানদের এই হইলো কাহিনী।আর কেউ বিয়া করত,কেউ বিয়া কি জিনিস জানতোই না।বেসিক্যালি রোমানরা।

রোম সাম্রাজ্যের গদিতে তখন আসীন ছিলেন রোমান সম্রাট সেকেন্ড ক্লডিয়াস।তাকে ক্লডিয়াস গথোকাস ও বলা হয়।গথিকদের হারিয়ে তিনি এই উপাধি কুড়িয়েছিলেন।

যাই হোক তখন রোম সাম্রাজ্যকে প্রকান্ড আকার দেওয়ার জন্যে ক্লডিয়াস সেকেন্ডকে খালি যুদ্ধের উপর থাকা লাগত। টানা যুদ্ধের মধ্যে থাকতে হইলে আপনার দরকার শক্তিশালী সেনাবাহিনি এবং অবশ্যই সংখ্যার দিক দিয়ে হতে হবে বিশাল।তখনকার সময়ে সৈন্যের সংখাধিক্য জয় -পরাজয়ের বিশাল ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করত।
আর বিশাল সৈন্যবাহিনি জন্যে দরকার প্রচুর আদম সন্তান জন্ম দেওয়া। প্রচুর আদম সন্তান জন্ম দিতে হইলে কি করতে হবে? অবৈধ গণ-লাগালাগির প্রচার ও প্রসার করতে হবে।
কারন আপনি বিয়া করলে কেবল একজনের সাথেই শুইতে পারবেন।তার কাছে লয়াল থাকা লাগবে।এবং যারতার সাথে ভেতরে বাহিরে অন্তরে খেলার জন্যে ১০ বার ভাবা লাগবে।
এমন হইলে চাহিদা মাফিক আদম সন্তানের সাপ্লাই হবে না। সাপ্লাই না হইলে সৈন্য বাহিনি বড় হবে না এবং বড় না হইলে রাজ্য জয়ে সমস্যা হবে।

কাজেই সে ভাবল, বিয়াটাই বাদ করে দিতে হবে। তার সাম্রাজ্যে কেবল মাত্র রোমানরাই বিয়া প্রথা মানে না।আইমিন তারা জানেই না বিয়া সম্পর্কে।কিন্তু এক রোমানদের দিয়া তো হবে না।অন্য জাতের সাথে এরা এত বেশী লাগালাগি করসে যে তাদের ব্রিড হইসে শারীরিকভাবে দুর্বল কিন্তু ব্রেনের দিক দিয়া ভাল।ব্রেন দিয়া ত আর রাজ্য জয় হবে না। রাজ্য বিজয়ে লাগবে পেশি শক্তি। রাজ্য টিকানোর সময়ে না হয় ব্রেন নিয়ে ভাবা যাবে।

যেহেতু রোমানদের থেকে সৈন্য সাপ্লাই পাওয়া যাবে না তাই পুর্বের দিকে নজর দিতে হবে। তার অধীনস্থ সিরিয়া আরাবিয়া প্যালেস্টাইন আনাতোলিয়া আর্মেনিয়া ইজিপ্টোস আবিসিনিয়া,কুর্দিস্থান এইসব জায়গা থেকে সৈন্য সাপ্লাই করতে হবে। বাট সমেস্যা হইলো এইসব জায়গার মানুষ প্যাগানে বিশ্বাসী হইলেও এরা রোমানদের মতন না। এরা বিয়া প্রথা মানত। ওইযে উপরে “বালের” কইলাম।

তাই সে ভাবল যদি সাম্রাজ্যের সবখান থেকে যদি বিয়া জিনিসটা উঠায়ে দেওয়া যায় তাইলে সবাই অবাধে গণ-লাগালাগি করবে।পাইপলাইনে আদম সাপ্লাইয়ের ও অভাব পড়বে না।সারা সাম্রাজ্যের মানুষের মধ্যে থেকে অবাদে সৈন্য বাহিনিতে লোক সাপ্লাই দেওয়া যাবে।

তাই ক্লডিয়াস আইন জারি করে দিল সাম্রাজ্যের সবখানে, – নো মোর বিয়া। বিয়া হারাম। যে বিয়া পড়াবে সে দেশদ্রোহী। তার কল্লা নেওয়া হবে।কল্লা বাঁচাইতে চাইলে কেউ যেন বিয়া না পড়ায়।
ফলাফল?বিয়া বন্ধ হয়ে গেল।মুর্তি পুজার চাইতে এখন সেখানে মাত্রাছাড়া সেক্স বেশী হয়।প্যাগানদের তীর্থভুমি এখন আকাম-কুকামের তীর্থভুমি হয়ে গেছে।

ঠিক এইসময়ে রোমের অধীনস্থ মিশরে তখন গোপনে চলছিলো খ্রিস্ট ধর্মের জোয়ার।মেইনলি প্যাগানিজমই চলতো। খ্রিস্টের বাণী প্রচার করা হইত খুবই গোপনে।
এই অঞ্চলেই জন্মেছিলেন ভ্যালেন্টাইন।সালটা হয়তো হবে ২১৯-২০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।ভ্যালেন্টাইনের জন্ম নিয়া খ্রিস্টান হুজুরগো মধ্যে আবার মতবিরোধ আছে।

ক্যাথলিকরা কয় সে আছিলো রোমান,আর তার জন্ম রোমের বাইরে কাছাকাছি কোথাও।

আর অর্থোডক্স রা কয় ভ্যালেন্টাইন ছিলেন কপ্টিক (ইজিপিশিয়ান-রোমান)। গ্রীক কপ্টোস থেকে কপ্টিক এসেছে। এর অর্থ হইলো -‘মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া নদী’।মূলত নাইল নদ এর পানি বছরে একবার শুকিয়ে যেত,এবং বালির চড়া পড়তো।তাই গ্রীকরা এরকম নামকরন দিসিলো।নাইল নদ তীরবর্তী অদীবাসিদেরই কপ্টিক কইত এইজন্যে। কপ্টিক এর আরাবিক হইলো কিবতি। মিশরীয়দের কিবতি আরব বলা হয় এইজন্যে।

ভ্যালেন্টাইন বড় হয়ে খ্রিস্ট ধর্মে বা আব্রাহামিক রিচুয়ালে দীক্ষিত হইলো।খ্রিস্টধর্মে যারা উচ্চশিক্ষার জন্যে যায় তাদের সন্নাসী হইবার অঙ্গীকার করতে হয়। ক্যাথলিক মতে সন্ন্যাসী হইলে চিরকুমার থাকা লাগবে। আজীবন আর কাউরে বিয়াটিয়া করা লাগবে না।

যদি ভুলেও কারো সাথে বিয়া দূরে থাক একটু টুক-পলান্তিস খেললেই পদবী হারাইতে হইবো আর জাহান্নামি হইতে হবে। আর অর্থোডোক্স নিয়ম একটু সহজ। সন্যাসী হইবার দীক্ষা গ্রহন করা শেষ হইলেই মন চাইলে বিয়া করতে পারবে কিংবা চিরকুমার-কুমারি থাকতেও পারবে।যদিও ভ্যালেন্টাইনের আমলে এত নিয়ম প্যাঁচগোঁছ ছিল না। ক্যাথলিক-অর্থো মিলেমিশে থাকতো আর ঠুয়াঠুয়ি করতো।

যাকগে, ভ্যালেন্টাইন সন্ন্যাসী হয়ে নামের আগে সেইন্ট যোগ করে তার উপলদ্ধ দীক্ষা ছড়ায়ে দেওয়ার জন্যে মিশর ছেড়ে বের হইলো।
উদ্দেশ্য সাম্রাজ্যের রাজধানী রোম।

রোমে আইসা দেখল,এই নগরী পুরা নস্টা হয়ে গেছে।মানুষের মধ্যে চারিত্রিক আদব কেতার বালাই নাই। অবাদে যৌনাচার-অজাচার হয়।
তাই সে তার কাছে আসা লোকদের খ্রিস্ট ধর্মের বাণী ছড়ানোর পাশাপাশি অবাদ যৌনতার উপরে লাগাম দেওয়ার জন্যে বিয়ার উপর বেশী করে ফোকাস দিসিলো।
তাদের বিয়ার গুরুত্ব বুঝাইতো।

পোলাগোরে কইত, জীবন মানেই খালি ফুটায় হান্দানো না।অবাধে গণ-লাগালাগি করা না।অবাধে গণ-লাগালাগি করলে শারীরিক ও মানসিক বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়।

আর মাইয়াগোরে কইতো, তোমাদের ফুটায় পুরুষরা অবাধে অনধিকার প্রবেশ করতে দিতে পারো না। এর একটা ইজ্জত আছে। এরে ইজ্জত দাও।

দুই দলেরেই কইতো, এইসব আকাম-কুকামের লিমিট আছে।।লিমিট ক্রস করা ভাল না। একে অপরকে ভালোবাসো,সে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্যে বিয়ের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হও।
লয়াল থাকো। তারপর ইচ্ছামত একে অপরের সাথে ভিতরে বাহিরে অন্তরে খেলো,কোনসমস্যা নাই।। ঈশ্বর তো মানা করেন নাই। কিন্তু লিমিট ক্রস করিও না সাবধান।

সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের এই বিয়ার ধারনা বাজারে একদম নতুন আর ইউনিক আইডিয়া আছিলো। তাই পাবলিক খাইলো ভাল মতো।অল্প দিনেই ভ্যালেন্টাইন প্রচুর ভক্ত বানায়ে ফেলল।শুধু তাই নয় সম্রাটের যুদ্ধ মন্ত্রীরে ও ভক্ত বানায়ালাইসে।
দলে দলে জোড়ায় জোড়ায় যুবক-যুবতীদের বিয়া দিতে লাগলো। এমনকি যুদ্ধমন্ত্রীরেও ছাড়ে নাই। বুড়া বয়সে যুদ্ধমন্ত্রীরে খ্রিস্টধর্মমতে বিয়া দিসে।

এইসব দেখে শুনে সম্রাট ক্লদিয়াসের মাথায় পড়লো বাজ আর পাছায় পড়ল বাঁশ। সে দেখলো খ্রিস্ট ধর্ম আইসা তার সাম্রাজ্যরে খাইয়া দিতে দেরি নাই।স্বয়ং যুদ্ধমন্ত্রী ও বিপথে চলি গেছে। তাই সে তড়িঘড়ি করে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনেরে পাকড়াও করল।

যারা যারা তার হাতে খ্রিস্টান হই বিয়া করসিলো তাদের সবাইরে গর্তে ফেলে আগুন দি পুড়িয়ে মারলো। আর সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দিল মৃত্যুদন্ড। সে সময় মৃত্যুদন্ড মানেই রোমের কলোসিয়ামে নিয়ে গিয়ে সিংহের হাতে ছেড়ে দেওয়া। সিংহ গুলারে তিন-দিন খাওন দিত না। ক্ষুদার্থ সিংহের সামনে ছাইড়া দিত,ফলস্বরুপ দন্ডিত ব্যক্তি প্রথমে হইতো সিংহের মুখের খাবার,এবং পরে সিংহের গুয়ের উপাদান

তো এভাবেইই দুনিয়া থেকে বিদায় নিল সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন।সিংহের গুয়ের উপাদান হয়ে।

এই হইলো মোটাদাগে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের ঐতিহাসিক কাহানি।

বাট,এর মধ্যে ১৪ তারিখ ক্যামনে আইলো??

এখানে তারিখ নিয়া খ্রিস্ট-ধর্মীয় হুজুরগো মধ্যে কাইজা বিবাদের শেষ নাই। ক্যাথলিক হুজুররা কয় সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন মরসে ১৪ তারিখে। আর অর্থোডক্স হুজুররা রা কয় এইটা ৩০ জুলাই। আবার আরেক দল হুজুর আছে প্রটেস্টান্ট লুথারিয়ান তারা কয় ৩০ সেপ্টেম্বর।

(শুধু তাই নয় আরেক সম্প্রদায় আছে তারা দাবি করে এটা ১৬ ডিসেম্বর। অবশ্য এই ১৬ ডিসেম্বরের সাথে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মরার কোন যোগসুত্র নাই। বরং এই দিনে ওই সম্প্রদায়ের গুরু সেইন্ট আর্ভিস্টান্ট এর ‘এক্স’ এর সাথে প্রথম কথা হয়েছিলো
শেষমেষ পুঁজিবাদী সম্প্রদায় ১৪ ফেব্রুয়ারিরে গণহারে প্রমোট করায় অন্য তারিখ গুলোর কথা সবাই ভুলে গেছে আর ১৪ তারিখ নাম কামিয়ে ফেলছে।)

ইতিহাসের পকপকানি আলাপ শেষ।
এবার বলেন তো সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন আসলে কি চাইসিলো??
আর আপনারা যারা মহাসমারোহে ভ্যালেন্টাইন পালন করেন তারা কি চান??

খুব সহজ ইকুয়েশন। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন চাইসে বিয়ার মাধ্যমে লাগামছাড়া আকাম-কুকামের রাশ টেনে ধরতে।
আর আপনেরা সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের শিক্ষার মায়রে বাপ করে বরং হাটতেছেন সম্রাট ক্লদিয়াসের দেখানো পথে। লিটনের ফ্ল্যাট,কনডম,অবাদ সেক্স এইসব কীওয়ার্ডগুলি সবই সেকেন্ড ক্লদিয়াসের আধুনিক রূপ। এবং আপনারা অনেকটাই ক্লদিয়াসের মহান(!) শিক্ষায় শিক্ষিত।

সুতরাং লাগালাগি বাদ দেন।বিয়া করেন।তারপর লাগালাগি করেন। উপদেশ লাগলে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের রোমের যুবক-যুবতীদের উদ্দেশ্য করে দেওয়া উপদেশ গুলোর কথা স্মরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here