স্পয়লার এলার্ট

স্পয়লার এলার্ট

স্পয়লার এলার্ট
আপনি যদি এখনো গেম অব থ্রোন্স এর আজকে এপিসোড কিংবা পুর্বে যদি কখনো কোন সিজনের কোন এপিসোড না দেখেই থাকেন, তাহলে এই পোস্ট এখানেই পড়া বন্ধ করে লা হাওলাও ওয়ালা কুওয়াতা পড়ে ভাগেন।

বিশ্বাস করেন আপনার ভালর জন্যেই বলছি।

এর পরেও যদি পড়েন। এবং পড়ে যদি অগ্রিম স্পয়লার পেয়ে নিজেরে প্রতারিত মনে হয়,এবং সেই ক্ষোভ থেকে যদি কমেন্টে জ্ঞান কিংবা গালি দিতে আসেন, তাইলে শুনে রাখেন আপনারেই আপনার দেওয়া জ্ঞান-গালির তিনগুন আপনার ইয়েতে ভরে দেওয়া হবে!

এ ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ করা হবে না!

প্রায় দুই দুইটা বছর কঠিন তপস্যা, সাধ্য-সাধনায় পর মহার্ঘ্য বস্তুর মত অবশেষে ধরা দিল গেম-অব-থ্রোন্স তথা সিংহাসনের-খেলা’র ফাইনাল সিজনের প্রথম এপিসোড।প্রায় সারারাত না ঘুমিয়ে,ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড গুনে গুণে, এর ওর ইনবক্সে ফেইক স্পয়লার ছড়িয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেস্টা চরিত্র করে সময় পার করার পর সকাল সাতটায় যখন ঝকঝকা প্রিন্ট হাতে পেলাম, তখন মনে হলো অনেকদিনের ভুখা-দুর্ভিক্ষকবলিত ব্যক্তির হাতে গরমাগম কাচ্ছি তুলে দেওয়া হয়েছে!

এইটা আসলে রিভিউ পোস্ট না।এইখানে কি কি দেখলাম কি কি বেশী চোখে পড়েছে এইসব নিয়ে আলোচনা হবে।আই প্রতি লাইনে লাইনে স্প্যলার থাকবে।কাহিনির মায়রে বাপ করা হবে।

শুরুতেই ফ্লাশব্যাক। দ্যান ইন্ট্রো। ইন্ট্রো শুরু হওয়ার সময় ভলিউম আকাশে তুলে দিয়েছিলাম।কান মারা খাবে খাক,ওইটা তো খেয়ে গেছে কবে। যা আছে তা দিয়ে প্রত্যেক মিলিসেকেন্ড উপভোগ না করে পাপ কামানোর কোন মানে হয় না।

শুরুতেই ভাংগা ওয়াল
এবারের ইন্ট্রো শুরুই হয়েছে ভাংগা ওয়াল দিয়ে।ব্যাপারটা সিম্বলিক।
শুধু তাই নয়। পুরো এপিসোডে এরকম অনেক কিছু দেখানো হয়েছে যা সিম্বলিক।

প্রথম সীনটার সাথেই তুলনা করতে পারেন, পিচ্ছি ছেলেটা যখন তুমুল এক্সাইটমেন্ট নিয়ে চিপা চাপা ঘুরে একেবারে গাছের আগায় উঠে বসে পুরো ড্রাগন আর্মির উত্তরে প্রবেশ দেখছিলো,তখন আমার মনে পড়ছিলো, সিজন ওয়ানের সেই দৃশ্যটির।রাজধানীর রাজকীয় বাহিনী যখন উইন্টারফেলে প্রবেশ করে,তখন ঠিক এরকমই উত্তেজনা নিয়ে আরিয়া স্টার্ক ওয়াগনের উপরে চেপে বসেছিলো।

রাস্তার জনমানষের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আরিয়ার নিজের মানুষগুলিকে ঘরে প্রবেশ করতে দেখাটা একটু অন্যরকম ছিল।অবশ্য আরিয়ার সাথে সবার পুনর্মিলনী হবে এটা জানা কথাই।তবে এটা হয়েছে খুবই সাদামাটা ভাবে! উইন্টারফেলে জনকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্যে অপেক্ষায় ছিল,ব্রান্ডন স্টার্ক, (থার্ড আই রেভেন হবার পর যাকে বয়সের তুলনায় বুড়ো দেখায়।) আমি ভেবেছিলাম জন আর স্টার্কদের মিলনে আর কিছু না হোক ইমোশনাল সিচুয়েশন ক্রিয়েট  হবে। হতেই পারে। সিজন ওয়ানে সেই যে আলাদা হলো এর পরে লম্বা সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সিসিক্যামেরা-স্টার্ক ওসবে পানি ঢেলে দিয়েছে তার গাম্ভীর্য দেখিয়ে!

এদিকে সিজন সাতে বারবার কথায় কথায় রানীকে লাগানোর ইচ্ছা পোষন করে যাওয়া ইউরোন গ্রেজয় শেষমেষ তার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করেই ফেলল,তবে সেইটা বোল্ড আকারে দেখালো আরো ভাল হতো বোধকরি :3 পরিচালক এখানে কেন কিপ্টামি করলেন আমার মাথায় ঢুকলো না।অথচ আগের সিজন গুলিতে সার্সিকে ওয়াক অব এটোনমেন্ট দিতে এদের কোন সমস্যা হয়নি। 😕 😕
এদিকে সম্ভবত সার্সির ঘোড়ায় আর চলছে না।হাতী লাগবে এখন।আর হাতী আনানোর জন্যেই মনে হয় ইউরোনকে এই প্রাইভেট টাইম শেয়ার করছে :3
আশা করবো বাকী সিজনের কোন না কোন এক এপিসোডে,গট এর দুঃখী মানব,সব হারানো কাঙ্গাল, লর্ড ফ্রেন্ডজোন স্যার জোরাহ মরমন্টও তার রাণীর সাথে এরকম কার্য হাসিল টাসিল করে ফেলবে। (গট তো টুইস্টের জন্যেই বিখ্যাত তাই না? আশা করতে দোষ কি) :3

এদিকে বাইট্টা ল্যানিস্টারকে মনে মনে যেভাবে আশা করছিলাম ব্যাডায় ঠিক ওইরকম ফুল ফর্মে থেকেই আভির্ভুত হইসে। বিচি নিয়া যেই খোঁচাটা দিল লর্ড ভ্যারিসকে!

আর ভাষা হারিয়ে ফেলছি যখন দুই দুইডা তাগড়া জোয়ান ড্রাগনের সামনে তাদের মাকে চুমু দিতে গিয়ে জনকে যে পরিস্থিতি ফেস করতে হয়েছে তা দেখে।

ড্রাগনের লুকটাই যেন বলছিলো,-তুই আমার মায়ের লগে যাই করিস,তোরে আব্বা হিসেবে আমি কস্মিনকালেও মানবোনা। :v :v :v

এদিকে স্যার ব্রন যা শুরু করছিলেন ভালো লাগতেছিলো,কিন্তু মেইস্টার শালারপুতে শেষ করতে দিল না। -_- লাস্ট সিজনের এইসব  মোমেন্টে এমন জ্বালা-যন্ত্রনা কিন্তু সহ্য হচ্ছে না -_- -_-

ভাল্লাগসে আরিয়া আর গেন্ড্রিক এর মিট হওয়াটা। হাওয়ামে উড়তা যাওয়া টাইপের একটা ফিলিংস যে আরিয়ার মনে জেগেছে এতে আমার কোন সন্দেহ নাই। গেন্ড্রির জায়গায় মনে মনে নিজেরে কল্পনা করে বললাম আরকি :3

পুরা এপিসোডে আমার চোখ চাতক পাখির মত শুধু একজনকেই খুজছিলো,পুরো গটে আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যারেক্টার -স্যার জেইমি ল্যানিস্টার কে!
স্যারকে যখন পাওয়া গেল তখন তিনি মুখোমুখি হলেন তার সাথেই, যাকে দিয়ে শুরু করেছিলেন তার পাপ,যার খেসারত তিনি দিয়ে চলছেন,দিয়েই চলছেন। দ্যা ব্রান্ডন স্টার্ক এর মুখোমুখি হবার সাথে সাথে তার চাহনীতে যে ভীতিকর ভাবটা দেখা গেল,তাতে খুব ভয়ই লেগেছে আমার কাছে।

হে খোদা, আমার ফেভারিট ক্যারেক্টারটারে যেন কোন অসম্মানি না করা হয়। 😞 😞 মারা গেলে যাক। এটলাস্ট ভালোভাবে মরুক! 😢 😢

শেষ হবার পরেও এন্ডিং ক্রেডিটে দেখানো হয়ে সামনের এপিসোডে কি হইতে পারে। ওই ব্যাপারে কিছু না বলি অবশ্য। সামনের সপ্তাহ আসুক!আপাতত তারই অপেক্ষা চলুক।
সর্বকালের সেরা টিভি সিরিজ নিয়ে মাতামাতি চলুক আগামী ৬টা সপ্তাহ!

2 COMMENTS

  1. শুরুতেই বলসো যারা দেখে নাই তাদের না পড়তে। তাও পড়সি কারণ নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বাঙ্গালীর আগ্রহ সৃষ্টির শুরুর দিক থেকেই। বাই দ্যা ওয়ে তোমার দেয়া স্পয়লারের বালটাও বুঝি নাই 😂😂😂

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here