স্পয়লার এলার্ট
স্পয়লার এলার্ট
স্পয়লার এলার্ট
আপনি যদি এখনো গেম অব থ্রোন্স এর আজকে এপিসোড কিংবা পুর্বে যদি কখনো কোন সিজনের কোন এপিসোড না দেখেই থাকেন, তাহলে এই পোস্ট এখানেই পড়া বন্ধ করে লা হাওলাও ওয়ালা কুওয়াতা পড়ে ভাগেন।

বিশ্বাস করেন আপনার ভালর জন্যেই বলছি।

এর পরেও যদি পড়েন। এবং পড়ে যদি অগ্রিম স্পয়লার পেয়ে নিজেরে প্রতারিত মনে হয়,এবং সেই ক্ষোভ থেকে যদি কমেন্টে জ্ঞান কিংবা গালি দিতে আসেন, তাইলে শুনে রাখেন আপনারেই আপনার দেওয়া জ্ঞান-গালির তিনগুন আপনার ইয়েতে ভরে দেওয়া হবে!

এ ব্যাপারে কোন কম্প্রোমাইজ করা হবে না!

সেকেন্ড এপিতে যা দেখলাম তাতে বলা যায় যে মেজর কোন স্পয়লার বা টুইস্ট পাওয়ার মত কোন কাহিনিই ঘটেনি।তবে প্রথম এপি থেকে এটা ফার বেটার ছিল।

উইন্টারফেলের চারপাশে ট্রেঞ্চ

ইন্ট্রোটা ও প্রথম এপি থেকে সামান্য আলাদা ছিল।ইন্ট্রতে উইন্টারফেলের চারপাশে ট্রেঞ্চ আর ঘোড়ামারা শুল দেখেই আঁচ করছিলাম যুদ্ধ আসন্ন! এবং তারপরেই গটে আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যারেক্টার সার জেইমির ড্রাগনমাতার মুখোমুখি হওয়া।

এ যাত্রায় তাকে সার ব্রিয়ান অব টার্থ একা হাতে বাঁচিয়ে দিয়েছেন বলা যায়! জেইমির সাথে তার বামন ভাই ট্রিয়নের সংলাপগুলো খুবই ভালো ছিল।

প্রথম এপিসোড সস্তা জোক দিয়ে ভরপুর থাকলেও সেকেন্ড এপিসোড এদিক দিয়ে আমার মন ভরিয়ে দিয়েছে!তবে একটা জিনিস কেউ খেয়াল করেছেন কিনা জানি না, লর্ড ভ্যারিসের মুখ দিয়ে একটা ডায়লগ ও বের হয়নি। নট এ সিংগেল ওয়ান!অথচ পুর্বের সিজনগুলিতে এই ভদ্রলোকের পাঞ্চলাইনগুলি  ট্রিয়নের চেয়ে কোন অংশেই কম ছিল না।

আমার কাছে মনে হয়েছে এই  এপিসোডে অনেকগুলো ইমোশনাল এটাচমেন্ট দেওয়ার চেস্টা করা হয়েছে। সানসার সাথে ডিকলেস গ্রেজয়ের পুনর্মিলনী, সার ডাভোসকে শিরিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া, জেমি কতৃক লেডি ব্রিয়ানকে নাইট বানানো সহ অনেকগুলো এপ্রোচ ছিল যা ইমোশনাল করতে বাধ্য! তবে সবচেয়ে বেশী ইমোশনাল হয়েছি সার জেইমি কতৃক লেডি ব্রিয়ানকে নাইট বানানোর সিনে।

আমার মতে পুরো এপিতে সবচেয়ে বেশী মনোযোগ কেড়েছে ফায়ারপ্লেসের সামনে মদের আড্ডাবাজিটা।এই মদের আড্ডাবাজিকে হাইপোথেটিক্যালি ও নেওয়া যায়। মনে হয়  বিদায়ের  আগে শেষ ভোজন।(অনেকটা জেসাসের দ্য লাস্ট সাফারের কথা মনে হয়েছিলো। 😉 ),যার শেষটা হয়েছে করূন রসে বিষাদময় গান দিয়ে!এই গানটাকে অন্যভাবে ও দেখা যেতে পারে। এপিসোড থ্রিতে যে মহাশশ্মান হয়ে যাবে এবং এক বা একাধিক মেজর ক্যারেক্টার মৃত্যুর দিকটাকেও ইংগিত করা হয়েছে!

এই এপিসোডের সবচেয়ে শক্তিশালী ও পাওয়ারফুল ডায়লগ কোনটা?নিঃসন্দেহে জেইমিকে  থার্ড আই রেভেন ব্রান স্টাকের বলা -“How do you know there is an afterwords?”

আপনাদের মতামতটা ও জানাতে পারেন।

আর সবচেয়ে ফানি ডায়লগ ছিল বোধকরি টরমুন্ড জায়ান্টসবেনের বলা, -“The big woman still hare?”

এদিকে এপিসোড ওয়ানে সার্সি আর ইউরোন গ্রেজয় এর মধ্যকার “নাউযুবিল্লাহ” সিনটা কোনভাবে জোড়াতালি দিয়ে এড়িয়ে গেলেও এবারের এপিসোডে আরিয়ার ক্ষেত্রে কোনরকম কিপটামি না করে পরিচালক একখান কামের কাম করেছেন বটে! ❤️

যদিও উতসাহি আরিয়া লাভারেরা মানতেই পারছেন না যে আরিয়া তাদের সাথে বিট্রে করে কামারের সাথে গুদামের বস্তার উপরেই ইটিস্পিটিস করবে!কিন্তু বয়সের দোষে দুষ্ট হইলে যা হয় আর কি,কেইই বা ভার্জিন থাকতে চায় :3

অবশ্য এত পাণিপ্রার্থী থাকতেই আরিয়া কেন গেন্ড্রিক এর সাথে গেল এ ব্যাপারে একটা চিন্তা মাথায় আসছে। :3 গেন্ড্রিক এর পেশী বহুল ম্যানলি দেহসৌষ্ঠব দেখে আরিয়া পটে গেল কিনা এটা নিয়ে গবেষনা করতে পারেন বাঙ্গালী আরিয়া লাভারেরা!চাইলে তারা আজ থেকেই জিমে এন্ট্রি নিতে পারেন।কিংবা কামারের দোকানে 😉।এতে ইনফিউচারে আরিয়া না জুটলে ও আরিয়ার মত সুন্দরি জুটলেও জুটতে পারে! :3

অবশ্য গট প্রেমিরা আরিয়ার ন্যুড সিন দেখে হায় হায় জাত গেল জাত গেল রব তুললে ও আমি ভয়ানক খুশি হয়েছি।(বুঝুক একবার হার্টব্রোকেনের ফিলিংস ক্যামন হয় :3 ) এবার কোন চামে লর্ডফ্রেন্ডজোন জোরাহ আর ড্রাগনকুইনের কোন একটা বোল্ড সিন দেখিয়ে দিলেই আমি একে এমি গ্রামি অস্কার নোবেল সব দিয়ে দিব প্রমিজ!

সে যাক এবার আসি কুটনৈতিক ব্যাপারে। গত এপিসোডে নিজেকে আয়রন থ্রোনস এর উত্তরাধিকারি হিসেবে আবিষ্কার করা জন স্নো আকা এগোন টার্গেরিয়ান তার আসল পরিচয় ফুফুর কাছে উদঘাটন করেছেন! এখন ফুফু কি ব্যবস্থা নেয় সেইটা দেখার ইচ্ছে ছিলো খুব, তবে আমার মনে হয় ব্যাপারটা তারা যুদ্ধ-পরবর্তি সময়ের জন্যে তুলে রাখছে!অবশ্য আমি আগে ভাবছিলাম যুদ্ধে জনের ফুফুর পটল তোলার সম্ভাবনা থাকলেও থাকতে পারে।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে,এমনটা মোটেও হবে না। ফুফু ভাতিজার থ্রোনস নিয়ে ক্ল্যাশ দেখানোর জন্যে হলেও দুজনই সাররভাইভ করবে সামনের গ্রেট ওয়ারে!

অবশ্য ফুফু চাইলে এককাজ করতে পারেন,যেহেতু ভাতিজা থ্রোনের আসল দাবিদার,সেহেতু ভাতিজার কাছে থ্রোনের দাবি ছেড়ে দিলেই পারেন। তাতে করে ভাতিজারে বিয়ে করে কুইন হইলেও তার ক্ষমতা কোন অংশেই কাম হবে না। কারন দুদুটো ড্রাগন আর আনসালিড,ডথরাকিরা তো কুইন খালিসির কথায় উঠে আর আর বসে। কাজেই মিলিটারি পাওয়ার এর জোরে জনকে নামকা ওয়াস্তে রাজা বানিয়ে ও শাসন ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিতে পারেন।

আর যদি বেশী লোভ দেখিয়ে যদি ভাতিজাকে সরিয়ে নিজেই বসতে যায় তাইলে চারদিক থেকে বিরোধিতা শুরু হবে, উত্তরের ঘাড়ত্যাড়া বিদ্রোহীদের দমন করতে করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতে হবে,রবার্ট রেভেলিয়নের মতো জন রেভেলিয়ন টাইপের গৃহযুদ্ধ শুরু হইলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।তাতে করে সেভেন কিংডমের শান্তির আম্মো পালিয়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে পারেন!কাজের কাজ কিচ্ছু হবে না! :3

এই ছিল সেকেন্ড এপিসোডের আগা টু গোড়ার বিস্তারিত! অপেক্ষায় থার্ড এপিসোপডের গ্রেট ওয়ারের!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here