(ইহুদিদের নিয়ে এই লেখা গুলি দুইটা স্ট্যাটাস আকারে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম কয়েকমাস আগে।সেদুটো স্ট্যাটাস গুলোর লেখা একত্রিত করে আবার এখানে দিলাম একসাথে! )
সর্বকালের সেরা যত ক্যাটাগরি আছে সব কিছুতেই ইহুদিরগো আধিপাত্য আছে।
আমার তো মনে হয় সর্বকালের সেরা মানব অপশন বাদ দিলে সব কিছুতেই ইহুদিরা একনাম্বার জায়গা দখল করে আছে।
যেমন ধরেন আইনস্টাইন।
সর্বকালের সেরা সায়েন্টিস্ট।
ওয়ারেন বাফেট।
সর্বকালের সেরা বিজনেস্ম্যান।
অড্রে হেপবার্ণ
সর্বকালের সেরা এক্ট্রেস।
শেইম ভাইজম্যান
বোমা-টোমা  বা বিষ্পোরক জাতীয় জিনিস বানাতে অত্যন্ত দরকারি মাল এসিটোনের আবিষ্কারক।
মার্ক জাকার্বাগ
এখনো সর্বকালের সেরাকিছু না হইলে এরে আপাতত সর্বকালের সেরা পিউর ইহুদি বলা যাইতে পারে। 😛
আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, স্পোর্টস সেকশনে সর্বকালের সেরার মধ্যে কোন জিউয়িশ ব্লাড আছে কিনা?
হ্যা আছে!
টেস্ট ইতিহাসের সর্ব প্রথম ৩০০ উইকেট শিকারকারী বোলার কে ছিলেন?
ফ্রেড ট্রুম্যান।
ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা টেস্ট বোলার।কিংবদন্তি।
৬৭ ম্যাচে ৩০০ উইকেট। যেখানে এন্ডারসন ৫০০ উইকেট নিতে প্রায় দেড়শ ম্যাচ খেলে ফেলছেন।
চাইলে এরকম অনেক পাওয়া যাবে খুজলে। সব ক্যাটাগরিতে জোরে উচ্চারিত হবার মত একটা না একটা জিউয়িশ পাওয়া যাবেই।
এন ইন্টারেস্টিং পার্ট, জিউয়িশ ধর্মে সাধারণত কনভার্ট হওয়া যায় না।জন্ম থিকাই ইহুদি হইতে হয়।
নইলে হওয়া যায় না। এরা নিজেরা নিজেরা বংশ বিস্তার করে ধর্ম টিকায়ে রাখছে বলা যায়।
কোন ধর্ম প্রচারের কামে কাজে নাই। অবশ্য জিউয়িশরা অন্যধর্মের লোকদের সাথে বিয়া মেলামেশা সেক্স সবই করে।
ওতে বাচ্চা কাচ্চা যারা হয় তারা হয় জিউশ। (জন্ম হইতে জিউশ ধারা অনুযায়ী।)
হিন্দু মুসলিম ক্রিস্টানদের মতোই জিউয়িশ ধর্মে ও কয়েকটা ভাগ আছে (যদি ও আমি আগে জানতাম এদের মধ্যে কোন ভাগ নাই। পুরাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টাইপের)।
অরিজিনাল ইহুদিরা হইলো বনি ইসরাইলের। বনি ইসরাইলের ১২টা ভাগ ছিল।এত গুলা ভাগ কোথায় হারায়ে গেছে কার বালে জানে।এ আলাপ আরেকদিন হবে।
আপাতত ৩টা ভাগের নাম জানি।
১)রাব্বানিক,
২)সেফার্ডিম ও
৩)আস্কেনাজি।
এর মধ্যে রাব্বানিকরা হইলো গিয়া ধরেন কট্টর মৌলবাদী টাইপের।ডিরেক্ট সোদন যাকে বলে। :3
আর সেফার্ডিমরা একটু মডারেট টাইপের মনে হয়।
আর রইলো আস্কেনাজি।এরা হইলো প্রগতিশীল ইহুদি।
এদের আবার অন্য দুই ভাগ রাব্বানিক আর সেফার্ডেমিক রা দেখতে পারে না। মুর্তাদ কয়!
আশ্চর্যের বিষয় হইলো উপরে যে কইলাম সর্বকালের সেরা সব ক্যাটাগরিতে জিউয়িশ ব্লাডদের জয়জয়কার, ওখানে সবাইই আস্কেনাজি মানে প্রগতিশীল ধারার।
আমরা মুসলমানরা প্রগতিশীল বলতে সে সংজ্ঞা বুঝি এই সংজ্ঞার প্রেরণা হইলো ওরাইই :3
এদের মধ্যে যে এত ভাগ আছে এটা সচরাচর বুঝা যায় না। হিন্দু মুসলিম ক্রিস্টানরা যেভাবে নিজেরা নিজেরা কাউ কাউ কইজ্জা করে ইহুদিদের মধ্যে এই জিনিসটা পাবেন না। এদিক দিয়ে ওরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে ঐক্যজোটের ভং ধরে বসে থাকে।(অবশ্য ওদের অতীতে কাইজ্জার হিস্টোরি আছে।সে ব্যাপারে নিচে আলাপ করছি)
এদিকে সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা জিউয়িশ ফার্স্ট লেডি পেতে যাচ্ছি কিছু বছর পর
আমাদের ন্যাশন মাদারের পুত্রবধু আবার জিউয়িশ। ওই হিসেবে আর কি।
জুইশ মানে ইহুদিদের মধ্যে প্রগতিশীল ভাবধারার আস্কেনাজিদের সর্ব জায়গায় সর্বক্ষেত্রে উন্নতির কারন আছে তাদের যাপিত জীবন ধারার মধ্যে।
আস্কেনাজিরা প্রায়ই মাক্সিমাম সায়েন্স-কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডের হয়।
আর জুইশদের মধ্যে ম্যাথমেটিকস আর মিউজিক হইলো ফরজে আইনের মত।
আমাদের দেশের গ্রামে গঞ্জে পিচ্ছি থেকেই পোলাপানদের যেমন মক্তবে পাঠানোর রেওয়াজ চলে তেমনি ইহুদিদের মধ্যে তাদের বাচ্চাদের ছোট থেকে ম্যাথমেটিকস আর মিউজিক এ দক্ষ করার রেওয়াজ চলে। যদি এটা এখন প্রায় নিয়মই হয়ে গেছে।
আপনি রাব্বানিক সেফার্ডিম আস্কেনাজি হোন আর সায়েন্স আর্টস কমার্স যে ব্যাকগ্রান্ড এরই হোন আপনাকে অবশ্যই ম্যাথমেটিকস আর মিউজিক ভাল ভাবে রপ্ত করা লাগবেইই।
এত কিছু থাকতে ওরা ম্যাথমেটিকস এর মিউজিক নিয়াই পড়ল কেন?
এর কারণ হইলো মিউজিক আর ম্যাথমেটিকস মনোযোগ বাড়ায়। আর মনোযোগ বাড়লে ব্রেইন ও ভাল হবে। যারে বলে শার্প।
যে কারনে ইহুদিদের ম্যাক্সিমামদের দেখবেন হাই আইকিউ অলা।নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সেরা আর সর্ব গ্রাহ্য।
এইসব কিন্তু কোন সিক্রেট ওয়েপন টাইপের কিছু না।সবাইই জানে।
গোল্ডেন এইজের মুসলিমরা ও জানত।নিজেদের যুগে মুসলিমরা ও ম্যাথমেটিকস এ সেরা ছিল।আল খাওয়ারোজিমি ছিলেন মুসলিম গোল্ডেন এইজের একজন কিংবদন্তী গনিতবিদ!তিনি এতই প্রমিনেন্ট ম্যাথমেটিশিয়ান ছিলেন যে তাকে পশ্চিমারা ফাদার অব আলজেব্রা উপাধি দিয়েছে!
থাউজেন্ড ইয়ার আগে মুসলিম স্বর্ণযুগে মুসলিম বাচ্চাদের যেভাবে মানুষ করা হইতো, এই যুগের ইহুদি বাচ্চাদের মানুষ করার মধ্যে কিছুটা গঠনগত মিল পাবেন।
গোল্ডেন এইজের সময় শাসন ব্যবস্থায় স্থিরতা আসার পর মুসলিম রা এসবের চর্চা বাদ দিয়া মদ আর হারেমের নারী নিয়ে আকাম-কুকাম আর লাগালাগিতে ব্যস্ত হয়ে নিজেদের পতন ঢেকে আনছে।
এমন না যে ইহুদিরা শুধু বর্তমান যুগে সেরা।এরা আগেও ছিল।
৩ হাজার বছর আগে পৃথিবীর লৌহ যুগে দাউদ আর তার পোলা সুলেমান (আমাদের ও ইহুদি ধর্মের নবী) যখন পুরো মধ্য এশিয়া মতান্তরে ততকালীন দুনিয়ার সর্ববৃহত ভুখন্ডের মালিক ছিল তখন ও ইহুদিরা দুনিয়ার সর্বসেরা জাতি ছিল।
(কথা প্রসংগে একটা কথা বইলে নেই।প্রথম প্রথম যখন ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করতাম তখন আমি ভাবতাম সুলাইমান (আঃ) ই দিগবিজয়ী বীর আলেকজানডার ছিলেন।:v ভুল জানতাম। আলেকজান্ডারের মত সুলাইমান ও বিজেতা ছিলেন। তবে সুলাইমান ছিলেন হিব্রু।পিউর বনি ইসরাইল। অবশ্য তার মা ছিলেন গ্রীক। তাও ৩ হাজার বছর আগে। আলেকজান্ডার এর কাহিনি পরে হাজার বছর পরে। )
এই বাবা-ছেলের রাজত্বে ছিল ততকালীন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বড় বন্দর গুলো।
টায়ার,সিডন,হাইফা,আকাবা,সুয়েজ,জেদ্দা,এডেন বন্দর!
খালি পুরো মধ্যপ্রাচ্য ওদের দখলে ছিল এটা বললে ভুল হবে। পুরো মধ্য প্রাচ্য এবং এশিয়া মাইনর ছিল সুলাইমান (আঃ) এর অধীনে। (তুরস্কের এশিয়া পার্ট, ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ।)
তিন হাজার বছর আগে যখন দুনিয়ার লৌহ প্রযুক্তি আস্তে আস্তে উন্নতি শুরু করছে তখন সবচেয়ে ভাল ধাতু বানাইতে পারত হিট্টাইট রা।
সুলেমান (আঃ) লোহা বানাইতে এক্সপার্ট এই হিট্টাইট জাতির শাসক ছিল। আর লোহার খনি মানেইই এশিয়া মাইনর।

এবার বুঝেন ক্যান ইহুদিরা দুনিয়ার সেরা ছিল! তখন সবচেয়ে মুল্যবান বস্তুই ছিল ধাতু আর মসলা দ্রব্য।ধাতু মসলা আর সিল্কের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপাত্য ছিল ইহুদিদের।

আর এই একচেটিয়া আধিপাত্যের পেছনে সুলায়মান (আঃ) এর এম্পায়ারের জিওগ্রাফিক্যাল লোকেশনও বড় ফ্যাক্টর ছিল।

পুরা মিডল ইস্ট আর এশিয়া মাইনর (আজকের তুরস্ক) হাতে থাকা মানে এশিয়া, ইউরোপ আর আফ্রিকার ঠিক মাঝখানে আপনি। তিন মহাদেশের ট্রেড কনট্রোল করতেসেন আপনি। লাস্ট ৫ হাজার বছরে যারা মিডল ইস্ট কন্ট্রোল করসে, তারা পুরা ওয়ার্ল্ডের ইকোনমি আর পলিটিক্স কন্ট্রোল করসে
সাথে আপনার সাউথ+সাউথ ইস্ট এশিয়ার সোনার দামের মসলা, আর এশিয়া মাইনরের লোহা।সুলাইমান (আঃ) এর সাম্রাজ্যের লোকেশনটা ঠিক এরকমই ছিল!যার কারনে তারাই দুনিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী জাতি ও শাসক ছিল।
সব গোল্ডেন এইজের যেমন উথান আছে তেমনি পতন ও আছে।আর বনি ইসরাইলি তথা ইহুদিদের পতন শুরু হয়েছিলো সুলাইমান (আঃ) মারা যাবার পর।তখন ইহুদিদের দুইটা ভাগ রাব্বানিক আর সেফার্ডিমরা নিজেগো মধ্যে কামড়াকামড়ি লাগাই দিসিলো।
রাব্বানিক সেফার্দিম বিভাজনের কারণে দাউদ (আ) আর সুলেমান (আ) এর বিশাল রাজ্য কয়েকভাগ হয়ে যায়।দক্ষিণে জর্দান আর আরব মরুভূমির বন্দর এডেন পর্যন্ত আরব গোত্রগুলা দখল করে ফেলে।
তাদের এই বিভাজনের কারনটা বলার আগে একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই, সেইটা হইলো ইহুদিরা নিজেগো মধ্যে কাইজ্জা বিবাদ মাত্রাতিরিক্ত পাপাচার করে করে নিজেদের ধ্বংস ঢেকে এনেছিলো।আর মুসলিমরা এনেছিল মদ আর দাসী বান্দী এনে হারেম বানিয়ে!
বেসিক্যালি ইহুদিরা পাপাচারে ডুবে গিয়েছিলো।ততকালীন দুনিয়ার এমন কোন আকাম কুকাম নাই এরা করে নাই। পরের এক দেড় হাজার বছর ধরে এদের পাপাচারি এতই বেড়েছিলো যে আল্লাহ এদের জন্যে নবীর পর নবী পাঠিয়েছেন। নবীর পর নবী এদের জন্যে আসছে আর এরা সব নবীরেই মারছে।
কোন নবীরে এরা মারে নাই?এই যে ঈশা (আঃ) (খ্রিস্টানদের মতে জেসাস) তার মরিয়ম( ক্রিশ্চানদের মত মেরি) এর খালু জাকারিয়া (আঃ) ,জাকারিয়ার পুত্র ইয়াহিয়া (আঃ) হইতে শুরু সব নবীরে মারছে। কোন প্রফেট এদের ভায়োলেন্সের হাত থেকে বাঁচতে পারে নাই!
সুলাইমান আঃ এর সময়ে কিন্তু ইহুদিদের মধ্যে এইসব রাব্বানিক সেফার্ডিম হাবিজাবি ভাগ ছিল না। শাসকের মরার পরেই ভাগ হয়ে যায়।
আর বিভাজনটা শুরু হয় বেসিক্যালি সুলেমানি সিন্দুক বা হায়কালে সুলেমানিতে কি আছে ওইটা নিয়া কথা কাটাকাটির দরুণ!
রাব্বানিকরা বলতো সুলেমানের সিন্দুকে খালি তাওরাতের তক্তি আছে।
আর সেফার্দিমরা বলে -না না খালি তৌরাত নাই। দাউদ আর সুলেমানের জাদুবিদ্যার কিতাবও আছে।
সফলতার চাবিকাঠি।
এত কুসংস্কারচ্ছ আর ধর্মান্ধ ছিল।
বিজ্ঞানেরে ভাবত জাদুবিদ্যা।
এখনো তাই মনে করে তাদের অনেকে।
সেফার্ডিম জুইসদের মধ্যে বিজ্ঞান গবেষক থাকলে ও হিব্রুতে ওরা জাদুবিদ্যাই কয়।
অগাস্ট ভাইজম্যানের কথাই ধরেন।জেনেটিক্স এর জনক। সায়েন্স এর পোলাপান নিশ্চয় নাম শুনে থাকবে।
ইনি সেফার্ডিম ছিলেন।
ইনার সম্পর্কে তার জাতেরা মনে করত সে জাদুবিদ্যা কইরাই সফলতা অর্জন করছে।
সেফার্ডিম রা তাও বিজ্ঞানরে জাদুচর্চা ভেবে ক্ষান্ত দিয়েছে।
আর রাব্বানিকরা?
তারা তো বিজ্ঞানচর্চাই পছন্দ করে না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here